গলা ব্যথা: কারণ, চিকিৎসা এবং করণীয়

গলা ব্যথা এমন একটি সমস্যা, যেটিকে অনেকেই খুব সাধারণ বলে ধরে নেন। কিন্তু বাস্তবে গলা ব্যথার কারণ সব সময় এক নয়। কারও এটি ঠান্ডা-কাশির অংশ, কারও টনসিলের প্রদাহ, কারও এলার্জি, আবার কারও ক্ষেত্রে এসিডিটি বা কণ্ঠের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফল। তাই শুধু গলা ব্যথা আছে শুনে সবার চিকিৎসা এক হবে, এমন ভাবা ঠিক নয়।

গলা ব্যথার কারণ চিকিৎসা ও করণীয় নির্দেশিকা

অনেক সময় ২–৩ দিনের বিশ্রাম, গড়গড়া/গার্গল আর পর্যাপ্ত পানি খেলেই আরাম পাওয়া যায়। কিন্তু যদি গিলতে কষ্ট হয়, জ্বর বেশি থাকে, কণ্ঠ ভেঙে যায়, বা কয়েক দিন পরেও ব্যথা না কমে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। কারণ কিছু ক্ষেত্রে গলা ব্যথা শুধু সাময়িক অস্বস্তি নয়; এটি টনসিল, কণ্ঠনালি, বা গলার ভেতরের অন্য সমস্যারও ইঙ্গিত হতে পারে।

তাই কখন ঘরে যত্ন নিলেই হবে, আর কখন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে, তা জানা জরুরি। এই লেখায় আমরা তুলে ধরেছি গলা ব্যথা কী, কেন হয়, কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে, ঘরে করণীয় কী, চিকিৎসা কীভাবে হয়, এবং কখন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ডাক্তারের পরামর্শ নিন:
০১৮২৩-০২৫৩০
Diagonal arrow Icon

গলা ব্যথা কী এবং কেন এই সমস্যা হয়?

গলা ব্যথা বলতে সাধারণভাবে গলার ভেতরে ব্যথা, জ্বালা বা অস্বস্তি, বা গিলতে কষ্ট হওয়াকে বোঝায়। এটি নিজে আলাদা কোনো রোগ নয়। বরং এটি একটি উপসর্গ, যার পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে।

কখনও গলার ওপরের অংশে সমস্যা হয়, কখনও টনসিলে প্রদাহ থাকে, কখনও কণ্ঠনালিতে চাপ পড়ে, আবার কখনও নাকের পেছন দিক দিয়ে শ্লেষ্মা নামতে নামতে গলা জ্বালা করে। তাই শুধু “গলা ব্যথা” শুনে কারণ ধরা যায় না। উপসর্গের ধরন, কত দিন ধরে আছে, সঙ্গে আর কী কী সমস্যা আছে, এসব মিলিয়ে কারণ বুঝতে হয়।

গলা ব্যথার সঙ্গে আর কী কী লক্ষণ দেখা যেতে পারে?

গলা ব্যথা হলে অনেক সময় একা ব্যথা থাকে না। এর সঙ্গে আরও কিছু উপসর্গ দেখা দেয়, যা কারণ বুঝতে সাহায্য করে। তাই রোগী যখন বলেন “গলা ব্যথা করছে”, তখন শুধু ব্যথার কথা নয়, আর কী কী সমস্যা আছে সেটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়।

গলা ব্যথার সঙ্গে দেখা দেওয়া অন্যান্য লক্ষণ

গলার ভেতরের অস্বস্তি

অনেক রোগী প্রথমে বলেন, গলার ভেতরটা খসখসে লাগছে। কারও জ্বালা করে। কারও মনে হয় কিছু একটা আটকে আছে। কারও আবার পানি গিলতেও অস্বস্তি হয়। এ ধরনের অবস্থায় নিচের সমস্যা থাকতে পারে—

  • গলা খসখসে লাগা
  • গলায় জ্বালা বা পোড়া পোড়া অনুভূতি
  • গলা শুকিয়ে যাওয়া
  • গিলতে ব্যথা বা অস্বস্তি
  • কথা বললে গলায় টান লাগা
  • গলায় চাপ বা ভারী লাগা

সংক্রমণের সঙ্গে থাকা উপসর্গ

যদি গলা ব্যথার কারণ সংক্রমণ হয়, তাহলে আরও কিছু লক্ষণ একসঙ্গে দেখা যায়। যেমন—

  • জ্বর
  • শরীর ব্যথা
  • দুর্বলতা
  • কাশি
  • নাক দিয়ে পানি পড়া
  • নাক বন্ধ থাকা
  • টনসিল ফুলে যাওয়া
  • গলার পাশের গ্রন্থি ফোলা

কণ্ঠের পরিবর্তন ও গলার চাপ

যাদের গলার সঙ্গে কণ্ঠের সমস্যাও থাকে, তাদের ক্ষেত্রে এই উপসর্গগুলো দেখা যেতে পারে—

  • কণ্ঠ বসে যাওয়া
  • স্বর ভারী হয়ে যাওয়া
  • বেশি সময় কথা বলতে না পারা
  • কথা বললে ব্যথা বাড়া
  • বারবার গলা পরিষ্কার করতে ইচ্ছে হওয়া
নোটঃ সব রোগীর সব উপসর্গ থাকে না। তাই উপসর্গের ধরন, সময়কাল, এবং তীব্রতা বুঝে কারণ ধরতে হয়।

গলা ব্যথা কেন হয়: সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কারণ সমূহ

গলা ব্যথা সাধারণত ভাইরাল ইনফেকশন, টনসিলের প্রদাহ, এলার্জি, এসিড রিফ্লাক্স, ধূমপান, অতিরিক্ত কণ্ঠ ব্যবহার বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে হতে পারে। এছাড়াও গলা ব্যথার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। নিচে সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলো সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

ভাইরাল সংক্রমণ

গলা ব্যথার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাল সংক্রমণ। সর্দি, ফ্লু, ঋতু পরিবর্তনের ভাইরাল সংক্রমণ, বা শ্বাসতন্ত্রের হালকা সংক্রমণে গলা ব্যথা শুরু হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত নাক দিয়ে পানি পড়া, হালকা জ্বর, কাশি, শরীর ব্যথা বা দুর্বলতাও থাকতে পারে।

ভাইরাল কারণে হওয়া গলা ব্যথা অনেক সময় কয়েক দিনের মধ্যে নিজে নিজেই কমে যায়। তবে বিশ্রাম, পানি এবং সঠিক যত্ন না নিলে অস্বস্তি বাড়তে পারে।

ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ

কিছু ক্ষেত্রে গলা ব্যথা ব্যাকটেরিয়ার কারণেও হয়। এতে সাধারণত গলা বেশি ব্যথা করে, জ্বর থাকতে পারে, টনসিল লাল বা ফুলে যেতে পারে, এবং কখনও সাদা দাগও দেখা যেতে পারে। এমন অবস্থায় নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে ডাক্তার দেখানো ভালো।

টনসিলের প্রদাহ

টনসিল ফুলে গেলে বা টনসিলে প্রদাহ হলে গলা ব্যথা খুব স্বাভাবিক। তখন গিলতে কষ্ট, মুখে দুর্গন্ধ, জ্বর, টনসিল ফুলে যাওয়া, এমনকি কানে ব্যথা ছড়িয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। শিশু, কিশোর এবং তরুণদের মধ্যে এটি বেশি দেখা যায়।

এলার্জি ও নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামা

অনেকের নাকে এলার্জি থাকে। এতে নাকের পেছন দিক দিয়ে শ্লেষ্মা নামতে থাকে। এই অবস্থাকে অনেকে আলাদা করে বোঝেন না। কিন্তু এতে গলায় বারবার অস্বস্তি, খুসখুসে ভাব, বারবার গলা পরিষ্কার করার ইচ্ছা, এবং হালকা ব্যথা হতে পারে।

এসিডিটি বা এসিড রিফ্লাক্স

অনেকে ভাবেন গলা ব্যথা মানেই ঠান্ডা বা সংক্রমণ। কিন্তু পেটের এসিড গলার দিকে উঠে এলেও গলা জ্বালা, ব্যথা, ভোরবেলায় গলা খারাপ লাগা, এবং কণ্ঠ ভারী হয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা হতে পারে। যাদের বুকজ্বালা আছে, ঢেকুর বেশি ওঠে, বা রাতের দিকে অস্বস্তি বাড়ে, তাদের ক্ষেত্রে এই কারণটি ভাবা জরুরি।

অতিরিক্ত কথা বলা বা কণ্ঠের ওপর চাপ

শিক্ষক, বক্তা, গায়ক, কল সেন্টারে কাজ করেন এমন মানুষ, বা যারা দিনের বড় অংশ কথা বলে কাটান, তাদের মধ্যে গলার পেশি ও কণ্ঠনালিতে চাপ পড়ে। এতে গলা ব্যথা, গলা শুকিয়ে যাওয়া, কণ্ঠ বসে যাওয়া, বা কথা বলতে অস্বস্তি হতে পারে।

ধুলাবালি, ধোঁয়া ও দূষণ

আমাদের চারপাশের পরিবেশও বড় কারণ। ধুলা, ধোঁয়া, ধূমপান, রাসায়নিক গন্ধ, বা ঠান্ডা-গরমের হঠাৎ পরিবর্তনে গলা সংবেদনশীল হয়ে যায়। এতে সরাসরি সংক্রমণ না থাকলেও গলা জ্বালা ও ব্যথা হতে পারে।

মুখ দিয়ে শ্বাস নেওয়া

নাক বন্ধ থাকলে অনেকে মুখ দিয়ে শ্বাস নেন। এতে গলা শুকিয়ে যায়। বিশেষ করে রাতে এমন হলে সকালে ঘুম থেকে উঠে গলা ব্যথা, শুষ্কতা, বা ভারী লাগার সমস্যা হয়।

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হয় কেন?

ঢোক গিলতে গলা ব্যথা হওয়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো গলার প্রদাহ বা সংক্রমণ। সর্দি-কাশি বা ফ্লুর মতো ভাইরাল সংক্রমণে গলা জ্বালা ও ব্যথা হয়, আর গিললে তা বেশি টের পাওয়া যায়। টনসিলের প্রদাহ বা ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ থাকলেও গিলতে ব্যথা বাড়তে পারে।

এ ছাড়া এলার্জি, নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামা, এসিডিটি বা এসিড রিফ্লাক্স, এবং কখনও গলার শুষ্কতা বা বেশি কথা বলার কারণে গলার চাপ থেকেও এমন হতে পারে। ব্যথাযুক্ত গিলতে কষ্টকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আলাদা উপসর্গ হিসেবে ধরা হয়, এবং এর কারণ সাধারণ সর্দি থেকে শুরু করে রিফ্লাক্স পর্যন্ত হতে পারে।

নোটঃ যদি গিলতে খুব কষ্ট হয়, জ্বর বেশি থাকে, টনসিল ফুলে যায়, কণ্ঠ বসে যায়, শ্বাসে কষ্ট হয়, বা ৫–৭ দিনের বেশি থাকে, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখানো উচিত।

ডাক্তার কীভাবে গলা ব্যথার কারণ নির্ণয় করেন?

গলা ব্যথার কারণ জানতে ডাক্তার প্রথমে রোগীর উপসর্গ সম্পর্কে বিস্তারিত শুনেন। কত দিন ধরে ব্যথা আছে, জ্বর আছে কি না, কাশি হচ্ছে কি না, গিলতে কষ্ট হচ্ছে কি না, বা কণ্ঠে পরিবর্তন এসেছে কি না—এসব তথ্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর ডাক্তার গলার ভেতর ভালোভাবে পরীক্ষা করেন। টনসিল ফুলেছে কি না, লালভাব আছে কি না, সাদা ছোপ বা পুঁজ দেখা যাচ্ছে কি না, তা দেখা হয়। একই সঙ্গে নাক, কান এবং ঘাড়ের গ্রন্থিও পরীক্ষা করা হতে পারে।

প্রয়োজনে গলা থেকে সোয়াব নিয়ে র‌্যাপিড স্ট্রেপ টেস্ট বা থ্রোট সোয়াব করা হয়, যাতে বোঝা যায় সংক্রমণটি ভাইরাসজনিত, নাকি ব্যাকটেরিয়ার কারণে। কিছু ক্ষেত্রে দ্রুত পরীক্ষায় পরিষ্কার ফল না এলে নমুনা ল্যাব কালচারের জন্য পাঠানো হয়।

যদি ডাক্তার অন্য কোনো সংক্রমণের সন্দেহ করেন, তাহলে রক্ত পরীক্ষাও দিতে বলতে পারেন। তবে সব রোগীর ক্ষেত্রে সব পরীক্ষা লাগে না। অনেক সময় রোগীর উপসর্গ ও শারীরিক পরীক্ষা দেখেই প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যায়।

গলা ব্যথার কার্যকর চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

গলা ব্যথার চিকিৎসা সব সময় কারণের ওপর নির্ভর করে। সবার জন্য এক চিকিৎসা নয়। একজনের ক্ষেত্রে বিশ্রাম ও পানি যথেষ্ট হতে পারে, অন্যজনের ক্ষেত্রে প্রয়োজন হতে পারে ওষুধ, পরীক্ষা, বা বিশেষজ্ঞ মূল্যায়ন।

গলা ব্যথার কার্যকর চিকিৎসা

১. ভাইরাল কারণে হলে

ভাইরাল কারণে গলা ব্যথা হলে সাধারণত সহায়ক চিকিৎসাই মূল বিষয়। বিশ্রাম, পানি, গড়গড়া/গার্গল, গলা আরাম রাখার ব্যবস্থা, এবং প্রয়োজন হলে উপসর্গ কমানোর ওষুধ দেওয়া হয়।

২. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে

এক্ষেত্রে চিকিৎসক রোগীর অবস্থা দেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেন। সব ক্ষেত্রে এক ওষুধ নয়। তাই নিজে নিজে চিকিৎসা শুরু না করে সঠিক মূল্যায়ন জরুরি।

৩. টনসিলের সমস্যায়

টনসিল কতটা ফুলেছে, জ্বর আছে কি না, বারবার হচ্ছে কি না, এসব দেখে চিকিৎসা ঠিক করা হয়। কারও ক্ষেত্রে শুধু ওষুধে ঠিক হয়। কারও ক্ষেত্রে ঘন ঘন সমস্যা হলে আরও মূল্যায়নের দরকার হয়।

৪. এলার্জির কারণে হলে

এলার্জির জন্য গলা ব্যথা হলে শুধু গলার জন্য ওষুধ দিলেই চলবে না। এলার্জির কারণ, নাকের অবস্থা, শ্লেষ্মা নামার সমস্যা—সবকিছু বিবেচনা করে চিকিৎসা করা হয়। না হলে গলা ব্যথা বারবার ফিরে আসে।

৫. এসিডিটির কারণে হলে

এসিডিটির কারণে গলা ব্যথার ক্ষেত্রে খাবার-দাবার, জীবনযাপন, খাবারের সময়, এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ—সবকিছুই ভূমিকা রাখে। অনেকের ক্ষেত্রে গলার সমস্যা কমাতে এসিডিটি নিয়ন্ত্রণ করাই মূল চিকিৎসা হয়ে যায়।

৬. কণ্ঠের ওপর চাপের কারণে হলে

ভয়েস রেস্ট, পর্যাপ্ত পানি, এবং কণ্ঠের যত্ন গুরুত্বপূর্ণ। যদি কণ্ঠ ভেঙে যায় বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকে, তবে কণ্ঠনালি পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে।

গলা ব্যথা হলে করণীয় কি?

হালকা গলা ব্যথা হলে কিছু সাধারণ যত্নে আরাম পাওয়া যায়। অনেক সময় এগুলোই যথেষ্ট হয়। যেমন—

  • বেশি করে পানি পান করুন
  • কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া/গার্গল করুন
  • কম কথা বলুন এবং গলাকে বিশ্রামে রাখুন
  • খুব ঠান্ডা বা ঝাল খাবার এড়িয়ে চলুন
  • ধুলা, ধোঁয়া ও ধূমপান থেকে দূরে থাকুন
  • নরম ও সহজ খাবার খান
  • নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না
  • কয়েক দিনেও না কমলে ডাক্তার দেখান
নোটঃ গলা ব্যথা হলেই নিজে নিজে অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করা ঠিক নয়। এতে সব সময় উপকার হয় না। বরং অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় ওষুধ খাওয়া হয়।

কখন গলা ব্যথাকে অবহেলা করা ঠিক নয়?

সব গলা ব্যথা বিপজ্জনক নয়। তবে কিছু লক্ষণ থাকলে দেরি না করে ডাক্তার দেখানো জরুরি। যেমন—

  • গলা ব্যথা ৫ থেকে ৭ দিনের বেশি থাকে
  • গিলতে খুব কষ্ট হয়
  • শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়
  • খুব বেশি জ্বর থাকে
  • কণ্ঠ দীর্ঘদিন বসে থাকে
  • গলায় গুটি বা ফোলা অনুভব হয়
  • এক পাশের গলা বেশি ব্যথা করে
  • মুখ খুলতে কষ্ট হয়
  • খাবার বা পানি গিলতে কষ্ট হয়
  • বারবার একই সমস্যা ফিরে আসে
  • সঙ্গে অকারণে ওজন কমে
  • কানের দিকে ব্যথা ছড়িয়ে যায়

গলা ব্যথায় কখন নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখাবেন?

গলা ব্যথা যদি হালকা হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে কমে আসে, তবে সাধারণ যত্নে অনেক সময় ভালো হয়ে যায়। কিন্তু কিছু পরিস্থিতিতে ইএনটি বিশেষজ্ঞ-এর কাছে যাওয়া উচিত।

যেমন, গলা ব্যথা বারবার হলে, টনসিল বারবার ফুললে, কণ্ঠ বসে গেলে, গিলতে কষ্ট হলে, গলায় জ্বালা বা অস্বস্তি দীর্ঘদিন থাকলে, কিংবা সাধারণ চিকিৎসায় না কমলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ দরকার। কারণ গলার সব সমস্যা এক রকম নয়। কখনও গলার ভেতরের অংশ, কণ্ঠনালি, টনসিল, নাকের সমস্যা, বা রিফ্লাক্স—সব মিলিয়ে বিষয়টি দেখতে হয়।

শিশুদের গলা ব্যথায় কোন জিনিস জানা জরুরী?

শিশুরা সব সময় পরিষ্কার করে বলতে পারে না যে তাদের গলা ব্যথা করছে। তাই অভিভাবকদের কিছু লক্ষণ খেয়াল করতে হয়।

যদি শিশু খেতে না চায়, পানি গিলতে কষ্ট হয়, বারবার কাঁদে, লালা ঝরে, জ্বর থাকে, গলা ধরার চেষ্টা করে, বা শ্বাসে অস্বাভাবিক শব্দ হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
শিশু দুর্বল দেখালে, খাবার কমিয়ে দিলে, বা মুখ খুলতে না চাইলে আরও সতর্ক হতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে দ্রুত অবস্থা বদলে যেতে পারে, তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

বাংলাদেশে গলা ব্যথার জন্য কোন ডাক্তার দেখাবেন?

গলা ব্যথা যদি কয়েক দিনের মধ্যে না কমে, বারবার ফিরে আসে, গিলতে কষ্ট হয়, কণ্ঠ বসে যায়, বা টনসিলের সমস্যা ঘন ঘন দেখা দেয়, তাহলে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখানো ভালো। কারণ একজন ইএনটি বিশেষজ্ঞ গলা, টনসিল, কণ্ঠনালি, নাকের পেছনের অংশ এবং গিলতে সমস্যার মতো সম্পর্কিত বিষয় একসঙ্গে মূল্যায়ন করতে পারেন।

ঢাকায় প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার একজন অভিজ্ঞ নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ, যিনি গলা, কণ্ঠ, টনসিল এবং মাথা-ঘাড়ের বিভিন্ন সমস্যার চিকিৎসায় ৪০ বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রাখেন। তাই দীর্ঘদিনের বা বারবার হওয়া গলা ব্যথার সঠিক কারণ জানতে তাঁর মতো অভিজ্ঞ ইএনটি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উপকারী হতে পারে।

  1. গলার সমস্যার অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ
  2. ৪০ বছরের বেশি সার্জারি অভিজ্ঞতা
  3. বাংলাদেশে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ইএনটি সার্জন
  4. আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নিরাপদ চিকিৎসা
  5. রোগীকেন্দ্রিক ও যত্নশীল চিকিৎসা
  6. এফআরসিএস, এফএএসিএস, এফআইসিএস, এফসিপিএস সনদপ্রাপ্ত
  7. হার্ভার্ড, এআইআইএমএস, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত
  8. গিলতে সমস্যার মূল্যায়নে এফইইএস সেবায় দক্ষ

গলা ব্যথায় অবহেলা নয়, সচেতন থাকা জরুরি

গলা ব্যথা খুব সাধারণ একটি সমস্যা। কিন্তু এর পেছনের কারণ সব সময় সাধারণ নাও হতে পারে। অনেক সময় এটি ভাইরাল সংক্রমণের কারণে হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়। আবার কিছু ক্ষেত্রে টনসিল, এলার্জি, এসিডিটি, কণ্ঠের চাপ, বা অন্য গলার সমস্যার ইঙ্গিত দেয়।

তাই গলা ব্যথা হলে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, কিন্তু অবহেলাও করা ঠিক নয়। উপসর্গ বুঝে যত্ন নিন, ঘরোয়া করণীয় মানুন, এবং সতর্ক লক্ষণ থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন

। এতে সমস্যার কারণ ধরা সহজ হয়, চিকিৎসাও সঠিকভাবে শুরু করা যায়।

এ্যাপয়ন্টমেন্ট বুক করুন Diagonal arrow Icon

গলা ব্যথা নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

গলা ব্যথা একটি সাধারণ উপসর্গ হলেও এ নিয়ে অনেকেরই দুশ্চিন্তা থাকে। তাই রোগীদের সবচেয়ে বেশি করা কিছু প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত ও সহজ উত্তর এখানে তুলে ধরা হলো।

গলা ব্যথা কেন হয়?

গলা ব্যথা একটি উপসর্গ, তাই এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। সবচেয়ে সাধারণ কারণ হলো ভাইরাল সংক্রমণ, তবে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ, টনসিলের প্রদাহ, এলার্জি, এসিডিটি, ধুলা-ধোঁয়া, শুষ্ক আবহাওয়া, বা বেশি কথা বলার কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এটি সাময়িকভাবে হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে বারবার ফিরে আসে। তাই শুধু ব্যথা কমানো নয়, কেন হচ্ছে সেটিও বুঝে দেখা জরুরি।

গলা ব্যথা হলে করণীয় কী?

বেশি পানি পান করা, কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করা, বিশ্রাম নেওয়া, ধোঁয়া-ধুলা এড়িয়ে চলা, এবং কণ্ঠকে বিশ্রাম দেওয়া উপকারী হতে পারে। কয়েক দিনেও না কমলে ডাক্তার দেখানো উচিত।

সব গলা ব্যথায় কি অ্যান্টিবায়োটিক লাগে?

না, সব গলা ব্যথায় অ্যান্টিবায়োটিক লাগে না। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক খেলে ভবিষ্যতে ওষুধের কার্যকারিতাও কমে যেতে পারে। তাই নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক না খেয়ে, প্রয়োজন হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

গলা ব্যথা কত দিন থাকলে ডাক্তার দেখাতে হবে?

সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে না কমলে বা ৫ থেকে ৭ দিনের বেশি থাকলে ডাক্তার দেখানো ভালো। সঙ্গে জ্বর, গিলতে কষ্ট, বা কণ্ঠের পরিবর্তন থাকলে আরও দ্রুত দেখাতে হবে।

গিলতে ব্যথা হলে করণীয় কী?

গিলতে ব্যথা হলে নরম ও সহজে গেলা যায় এমন খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। বেশি পানি পান করুন, কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করুন, এবং গলাকে বিশ্রামে রাখুন। যদি খাবার বা পানি গিলতেই খুব কষ্ট হয়, বা ব্যথা দ্রুত বাড়ে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

এলার্জির কারণেও কি গলা ব্যথা হয়?

হ্যাঁ, এলার্জির কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে নাকের পেছন দিয়ে শ্লেষ্মা নামতে থাকলে গলায় খুসখুসে ভাব, জ্বালা, গলা পরিষ্কার করতে ইচ্ছে হওয়া, বা হালকা ব্যথা হতে পারে। অনেক সময় রোগী এটিকে সংক্রমণ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এলার্জিজনিত গলা ব্যথায় নাকের সমস্যাও অনেক সময় সঙ্গে থাকে।

এসিডিটির কারণে কি গলা ব্যথা হতে পারে?

হ্যাঁ, এসিডিটির কারণেও গলা ব্যথা হতে পারে। পেটের এসিড গলার দিকে উঠে এলে গলায় জ্বালা, খুসখুসে ভাব, কণ্ঠ ভারী লাগা, বা ভোরবেলা গলা খারাপ লাগার মতো সমস্যা হয়। সবার বুকজ্বালা থাকতেই হবে, এমন নয়। তাই দীর্ঘদিন গলা ব্যথা থাকলে এসিড রিফ্লাক্সের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার

শিশুদের গলা ব্যথা হলে কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে?

যদি শিশু খেতে না চায়, পানি গিলতে কষ্ট হয়, লালা পড়ে, খুব বেশি জ্বর থাকে, শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বা খুব দুর্বল দেখায়, তাহলে দ্রুত ডাক্তার দেখাতে হবে। ছোট বাচ্চারা সব সময় তাদের অস্বস্তি ঠিকমতো বলতে পারে না, তাই তাদের আচরণ, খাওয়ার সমস্যা, এবং শ্বাসের দিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি।

সতর্কতাঃ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।

Arrow