টিনিটাস : লক্ষণ, কারণ, রোগ নির্ণয় ও আধুনিক চিকিৎসা
কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, ঝিঁঝিঁ শব্দ, শোঁ শোঁ আওয়াজ বা হৃদস্পন্দনের মতো শব্দ শোনা অনেকের কাছেই
বিরক্তিকর সমস্যা। বাইরে কোনো শব্দ না থাকলেও কানের ভেতরে বা মাথার মধ্যে এমন শব্দ অনুভূত হলে তাকে
সাধারণভাবে টিনিটাস বলা হয়। শুরুতে এটি হালকা মনে হলেও দীর্ঘদিন থাকলে ঘুম, মনোযোগ, শ্রবণশক্তি ও
দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে।
টিনিটাসের পেছনে কানের ময়লা, কানের সংক্রমণ, উচ্চ শব্দের ক্ষতি, বয়সজনিত শ্রবণশক্তি কমে
যাওয়া, কিছু ওষুধের প্রভাব বা রক্তনালীর সমস্যা থাকতে পারে। তাই কানে শব্দ হলে শুধু ঘরোয়া
উপায় বা নিজে নিজে ওষুধ ব্যবহার না করে সঠিক পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের
পরামর্শ নেওয়া ভালো।
টিনিটাস হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে রোগী বাইরের কোনো উৎস ছাড়াই কানে বা মাথার ভেতরে শব্দ
অনুভব করেন। এই শব্দ এক কানে, দুই কানে বা মাথার মাঝখানে শোনা যেতে পারে। শব্দটি কখনো হালকা, কখনো
জোরে, কখনো একটানা, আবার কখনো আসা-যাওয়ার মতো হতে পারে।
সহজভাবে বললে, টিনিটাস কোনো এক ধরনের শব্দ নয়। এটি রোগীর কাছে ভিন্নভাবে অনুভূত হতে পারে। কেউ বলেন
কানে ঝিঁঝিঁ করছে, কেউ বলেন ভোঁ ভোঁ করছে, কেউ আবার বলেন হৃদস্পন্দনের মতো শব্দ হচ্ছে।
সহজভাবে বললে, টিনিটাস কোনো এক ধরনের শব্দ নয়। এটি রোগীর কাছে ভিন্নভাবে অনুভূত হতে পারে। কেউ বলেন
কানে ঝিঁঝিঁ করছে, কেউ বলেন ভোঁ ভোঁ করছে, কেউ আবার বলেন হৃদস্পন্দনের মতো শব্দ হচ্ছে।
টিনিটাসের সাধারণ লক্ষণ
টিনিটাসের প্রধান লক্ষণ হলো আশেপাশে কোনো বাহ্যিক শব্দ না থাকলেও কানে বা মাথার ভেতরে শব্দ
অনুভব করা। কারও ক্ষেত্রে শব্দটি হালকা ও মাঝেমধ্যে হয়, আবার কারও ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘ সময় ধরে
বিরক্তিকরভাবে চলতে থাকে। টিনিটাস হলে সাধারণত যেসব শব্দ অনুভূত হতে পারে:
কানে ঘণ্টা বাজার মতো শব্দ
শোঁ শোঁ বা বাতাসের মতো শব্দ
ভোঁ ভোঁ বা গুনগুন শব্দ
ঝিঁঝিঁ পোকার ডাকের মতো শব্দ
হিসহিস বা সিসকার মতো শব্দ
ক্লিক ক্লিক বা টিকটিক শব্দ
হৃদস্পন্দনের তালে তালে শব্দ অনুভব করা
নীরব পরিবেশে শব্দ বেশি স্পষ্ট মনে হওয়া
টিনিটাসের সঙ্গে আরও যেসব উপসর্গ থাকতে পারে
কানের শব্দের পাশাপাশি কিছু রোগীর ক্ষেত্রে আরও কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। এসব লক্ষণ থাকলে বিষয়টি
বেশি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
টিনিটাস কেন হয়: কানের ভিতর শব্দ হওয়ার প্রধান কারণ
টিনিটাস সাধারণত একক কোনো কারণে হয় না। অনেক সময় কানের ভেতরের সমস্যা থেকে এটি হয়। আবার কিছু
ক্ষেত্রে শরীরের অন্য সমস্যা বা জীবনযাপনের অভ্যাসের সঙ্গেও এটি সম্পর্কিত হতে পারে।
১. শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের শ্রবণশক্তি ধীরে ধীরে কমে। এর সঙ্গে টিনিটাস দেখা দিতে পারে। যারা
দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের পরিবেশে কাজ করেন, যেমন কারখানা, নির্মাণকাজ, সাউন্ড সিস্টেম বা মেশিনের
আশপাশে থাকেন, তাদের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।
২. উচ্চ শব্দে দীর্ঘদিন থাকা
কানে হেডফোন দিয়ে খুব জোরে গান শোনা, কনসার্টে বেশি সময় থাকা, মেশিনের শব্দ, জেনারেটর, ড্রিল মেশিন
বা বিস্ফোরণধর্মী শব্দ কানের সূক্ষ্ম কোষের ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে টিনিটাস শুরু হতে পারে বা আগের
সমস্যা বাড়তে পারে।
৩. কানের ময়লা জমে যাওয়া
কানের ময়লা জমে কান বন্ধ হয়ে গেলে অনেক সময় কানে ভোঁ ভোঁ বা শোঁ শোঁ শব্দ হতে পারে। অনেকে কটন বাড বা
অন্য কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার করতে গিয়ে ময়লা আরও ভেতরে ঠেলে দেন। এতে সমস্যা বাড়ে।
নাক বন্ধ, সাইনাসের সমস্যা, ইউস্টেশিয়ান টিউবের সমস্যা বা গলার কিছু অবস্থার কারণে কানে চাপ তৈরি হতে
পারে। তখন কানে বন্ধভাবের সঙ্গে শব্দ অনুভূত হতে পারে।
৬. কিছু ওষুধের প্রভাব
কিছু ওষুধ কানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। রোগী যদি নতুন কোনো ওষুধ শুরু করার পর কানে শব্দ অনুভব করেন,
তাহলে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
৭. রক্তনালীর সমস্যা
যদি কানের শব্দ হৃদস্পন্দনের সঙ্গে তাল মি লিয়ে হয়, সেটি পালসাটাইল টিনিটাস হতে পারে। এই ধরনের
টিনিটাসে রক্তপ্রবাহ, রক্তচাপ বা রক্তনালীর কোনো সমস্যা আছে কি না, তা পরীক্ষা করা জরুরি।
৮. চোয়াল, ঘাড় বা দাঁতের সমস্যা
চোয়ালের জয়েন্ট, দাঁতের কামড়ের সমস্যা বা ঘাড়ের পেশির টান কখনো কখনো টিনিটাস বাড়াতে পারে। বিশেষ করে
মাথা, ঘাড় বা চোয়াল নড়ালে শব্দের ধরন বদলালে এই দিকটি দেখা দরকার।
টিনিটাসের প্রকারভেদ
টিনিটাস বুঝতে হলে তার ধরন বোঝা জরুরি। কারণ ধরন অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরিকল্পনা আলাদা হতে
পারে।
১. সাবজেকটিভ টিনিটাস
এটি সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এই ক্ষেত্রে শব্দ শুধু রোগীই শুনতে পান। শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানের
ভেতরের সমস্যা, উচ্চ শব্দের ক্ষতি বা নার্ভের সমস্যার সঙ্গে এটি সম্পর্কিত হতে পারে।
২. অবজেকটিভ টিনিটাস
এটি তুলনামূলকভাবে বিরল। কিছু ক্ষেত্রে চিকিৎসক পরীক্ষা করার সময় শব্দের উৎস সম্পর্কে ধারণা পেতে
পারেন। রক্তনালী, পেশির স্পাজম বা মধ্যকর্ণের কিছু সমস্যার কারণে এমন হতে পারে।
৩. পালসাটাইল টিনিটাস
এই ক্ষেত্রে কানের শব্দ হৃদস্পন্দনের মতো হয়। রোগী বলেন, কানে ধুপধুপ বা স্পন্দনের মতো শব্দ হচ্ছে। এ
ধরনের টিনিটাস অবহেলা না করে ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টিনিটাসের ঝুঁকির কারণ ও সম্ভাব্য জটিলতা
টিনিটাস যেকোনো বয়সে হতে পারে, তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। দীর্ঘদিন
উচ্চ শব্দে থাকা, বয়সজনিত শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, কানের ময়লা জমে থাকা, কানের
ইনফেকশন, কিছু ওষুধের প্রভাব, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, চোয়াল বা ঘাড়ের সমস্যা এবং অতিরিক্ত
হেডফোন ব্যবহার টিনিটাসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
টিনিটাসের সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ
দীর্ঘদিন উচ্চ শব্দের পরিবেশে থাকা
খুব জোরে ও দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করা
বয়সজনিত শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া
কানের ময়লা জমে কান বন্ধ হয়ে যাওয়া
বারবার কানের ইনফেকশন হওয়া
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তনালীর সমস্যা
ডায়াবেটিস বা থাইরয়েডের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগ
চোয়ালের জয়েন্ট, দাঁত বা ঘাড়ের পেশির সমস্যা
মাথা বা কানে আঘাতের ইতিহাস
টিনিটাসের কারণে কী কী জটিলতা হতে পারে?
টিনিটাস শুধু কানের শব্দের সমস্যা নয়। দীর্ঘদিন থাকলে এটি রোগীর ঘুম, মনোযোগ, মানসিক শান্তি এবং
দৈনন্দিন কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে নীরব পরিবেশে শব্দ বেশি বিরক্তিকর লাগে, ফলে
রাতে ঘুমাতে অসুবিধা হয়। সম্ভাব্য জটিলতাগুলো হলো:
ঘুমের সমস্যা
কাজে বা পড়াশোনায় মনোযোগ কমে যাওয়া
মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বেড়ে যাওয়া
অতিরিক্ত শব্দে বিরক্তি বা অস্বস্তি
মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া
দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া
শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা কথাবার্তা বুঝতে সমস্যা হওয়া
নোট: টিনিটাস দীর্ঘদিন থাকলে বা এর সঙ্গে শুনতে কম লাগা, মাথা ঘোরা, এক কানে শব্দ, কানে
ব্যথা বা হৃদস্পন্দনের মতো শব্দ থাকলে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সব টিনিটাস জরুরি নয়। কিন্তু কিছু লক্ষণ থাকলে দেরি করা ঠিক নয়। নিচের লক্ষণগুলো থাকলে শুধু ঘরোয়া
উপায়ে সময় নষ্ট না করে পরীক্ষা করানো দরকার। দ্রুত
চিকিৎসকের পরামর্শ নিন
যদি:
হঠাৎ এক কানে শুনতে কমে যায়
কানে শব্দের সঙ্গে মাথা ঘোরা থাকে
কানে তীব্র ব্যথা বা পুঁজ থাকে
শব্দ শুধু এক কানে বেশি হয়
কানের শব্দ হৃদস্পন্দনের সঙ্গে মিল থাকে
মাথায় আঘাতের পর টিনিটাস শুরু হয়
টিনিটাস ঘুম, কাজ বা পড়াশোনায় বড় প্রভাব ফেলছে
কানে শব্দের সঙ্গে মুখ বেঁকে যাওয়া, দুর্বলতা বা স্নায়বিক লক্ষণ থাকে
টিনিটাসের আধুনিক চিকিৎসা
টিনিটাসের চিকিৎসা রোগীর কারণ, বয়স, শ্রবণশক্তি, লক্ষণের
তীব্রতা এবং জীবনযাত্রার ওপর নির্ভর করে। সব রোগীর জন্য এক চিকিৎসা নয়। তাই ব্যক্তিভিত্তিক চিকিৎসা
পরিকল্পনা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
১. কানের ময়লা বা ইনফেকশন থাকলে চিকিৎসা
যদি কানের ময়লা জমে টিনিটাস হয়, তাহলে নিরাপদভাবে ময়লা পরিষ্কার করলে উপসর্গ কমতে পারে। ইনফেকশন
থাকলে তার জন্য উপযুক্ত ওষুধ, কানের ড্রপ বা অন্য চিকিৎসা দরকার হতে পারে।
২. শ্রবণশক্তি কমে গেলে হিয়ারিং এইড
যাদের টিনিটাসের সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া আছে, তাদের ক্ষেত্রে হিয়ারিং এইড অনেক সময় উপকার করে।
বাইরে থেকে শব্দ স্পষ্ট শোনা গেলে টিনিটাস কম বিরক্তিকর মনে হতে পারে। আধুনিক hearing aid-এ অনেক
ক্ষেত্রে noise management ও tinnitus support feature থাকে।
৩. সাউন্ড থেরাপি
নীরব পরিবেশে টিনিটাস বেশি অনুভূত হয়। সাউন্ড থেরাপিতে হালকা background sound ব্যবহার করা হয়, যাতে
কানের ভেতরের শব্দ কম বিরক্তিকর লাগে। যেমন মৃদু প্রাকৃতিক শব্দ, soft music, white noise বা বিশেষ
sound generator।
৪. Tinnitus Retraining Therapy
Tinnitus Retraining Therapy বা TRT-তে কাউন্সেলিং এবং সাউন্ড থেরাপি একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। লক্ষ্য
হলো মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে টিনিটাসের শব্দকে কম গুরুত্ব দিতে শেখানো। এটি সময়সাপেক্ষ, তবে অনেক রোগীর
ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
৫. CBT বা কাউন্সেলিং সাপোর্ট
টিনিটাসের কারণে ঘুম কমে গেলে, ভয় তৈরি হলে বা মনোযোগ নষ্ট হলে কাউন্সেলিং বা Cognitive Behavioral
Therapy সহায়ক হতে পারে। এটি কানের শব্দ সরাসরি বন্ধ করে না, তবে শব্দের প্রতি মানসিক প্রতিক্রিয়া
কমাতে সাহায্য করে।
৬. ঘুম ও স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট
ঘুম কম হলে টিনিটাস বেশি বিরক্তিকর মনে হতে পারে। আবার টিনিটাসের কারণে ঘুমও কমে যেতে পারে। তাই
ঘুমের রুটিন, রাতের নীরবতা কমানো, ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ, স্ক্রিন টাইম কমানো এবং relaxation practice
অনেক রোগীর জন্য কাজে আসে।
৭. রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য রোগ নিয়ন্ত্রণ
উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা রক্তনালীর সমস্যা থাকলে সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। কারণ
শরীরের সামগ্রিক অবস্থার সঙ্গে কানের স্বাস্থ্যও সম্পর্কিত।
৮. ওষুধের মূল্যায়ন
কিছু ওষুধ টিনিটাস বাড়াতে পারে। তবে নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসক রোগীর
ব্যবহৃত ওষুধ দেখে প্রয়োজন হলে বিকল্প বা ডোজ নিয়ে পরামর্শ দিতে পারেন।
কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ দূর করার উপায়
কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ হলে অনেকে প্রথমে এটিকে সাধারণ সমস্যা ভেবে এড়িয়ে যান। কিন্তু শব্দটি যদি
বারবার হয়, দীর্ঘদিন থাকে, এক কানে বেশি শোনা যায়, বা শুনতে কম লাগে, তাহলে বিষয়টি পরীক্ষা করা
দরকার। কারণ টিনিটাস কখনো কানের ময়লা, ইনফেকশন, উচ্চ শব্দের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া বা অন্য
কোনো ENT সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ কমাতে যা করা যেতে পারে:
খুব জোরে হেডফোন ব্যবহার করা বন্ধ করুন
কানে কটন বাড, কাঠি বা ধাতব কিছু ঢোকাবেন না
উচ্চ শব্দের জায়গায় ear protection ব্যবহার করুন
রাতে নীরব ঘরে সমস্যা হলে হালকা background sound ব্যবহার করতে পারেন
পর্যাপ্ত ঘুমের চেষ্টা করুন
অতিরিক্ত চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক কমিয়ে দেখুন
রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা থাইরয়েড সমস্যা থাকলে নিয়ন্ত্রণে রাখুন
দীর্ঘদিন শব্দ থাকলে ENT বিশেষজ্ঞ দেখান
নোট: যদি কানে শব্দের সঙ্গে হঠাৎ শ্রবণশক্তি কমে যায়, মাথা
ঘোরা, কানে পুঁজ, ব্যথা, বা মাথায় আঘাতের ইতিহাস থাকে, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
টিনিটাস এর ঔষধ: সত্যিই কি কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ আছে?
টিনিটাসের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই ধরনের ওষুধ কাজ করে না। কারণ টিনিটাস নিজে একটি লক্ষণ; এর পেছনে
ভিন্ন ভিন্ন কারণ থাকতে পারে। কারও কানের ময়লা জমে সমস্যা হয়, কারও কানে সংক্রমণ থাকে, কারও
শ্রবণশক্তি কমে যায়, আবার কারও ক্ষেত্রে উচ্চ শব্দের কারণে কানের সূক্ষ্ম কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তাই “টিনিটাসের ওষুধ” নেওয়ার আগে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে কানের পরীক্ষা এবং
প্রয়োজন হলে শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করা ভালো। যদি কানে সংক্রমণ
থাকে, চিকিৎসক উপযুক্ত ওষুধ বা কানের ড্রপ দিতে পারেন। কানের ময়লা জমে থাকলে নিরাপদভাবে পরিষ্কার
করার প্রয়োজন হতে পারে। শ্রবণশক্তি কমে গেলে শ্রবণযন্ত্র বা শব্দ-চিকিৎসা বেশি কার্যকর হতে পারে।
টিনিটাস থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায়
টিনিটাস থেকে মুক্তির ঘরোয়া উপায় বলতে এমন কিছু অভ্যাস বোঝায়, যা কানের শব্দের অস্বস্তি
কমাতে সাহায্য করতে পারে। এগুলো চিকিৎসার বিকল্প নয়, তবে অনেক রোগীর ক্ষেত্রে দৈনন্দিন জীবন সহজ
করে।
রাতে ঘুমানোর সময় টিনিটাস বেশি বিরক্তিকর মনে হলে একেবারে নীরব ঘরে না থেকে হালকা ফ্যান সাউন্ড, সফ্ট
মিউজিক, বৃষ্টির শব্দ বা white noise ব্যবহার করা যেতে পারে।
ঘরে যা করতে পারেন:
ঘুমের আগে মোবাইল ও উচ্চ শব্দ কমিয়ে দিন
নীরবতায় সমস্যা হলে মৃদু ব্যাকগ্রাউন্ড সাউন্ড রাখুন
কানে বারবার খোঁচাখুঁচি করবেন না
স্ট্রেস কমাতে breathing exercise বা relaxation practice করতে পারেন
দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন
উচ্চ শব্দের পরিবেশ থেকে দূরে থাকুন
পর্যাপ্ত পানি পান করুন ও নিয়মিত ঘুমের রুটিন রাখুন
কফি, চা বা ক্যাফেইন বেশি খেলে টিনিটাস বাড়ে কি না খেয়াল করুন
নোট: যদি ঘরোয়া যত্নের পরও কানে ঝিঁ ঝিঁ শব্দ না কমে, বা
শব্দের সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, এক কানে শব্দ, কানে ব্যথা বা পুঁজ থাকে, তাহলে দেরি
না করে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।
টিনিটাস প্রতিরোধে করণীয়
টিনিটাস প্রতিরোধের সবচেয়ে ভালো উপায় হলো কানের যত্ন নেওয়া, উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলা এবং
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখা। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে কানে ভোঁ ভোঁ, শোঁ শোঁ বা ঝিঁঝিঁ শব্দ
হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
উচ্চ শব্দ এড়িয়ে চলুন: কারখানা, নির্মাণ সাইট, কনসার্ট বা জোরে মাইকের শব্দের কাছে থাকলে
ইয়ারপ্লাগ বা কানের সুরক্ষা ব্যবহার করুন।
হেডফোনের ভলিউম কম রাখুন: দীর্ঘ সময় উচ্চ ভলিউমে গান বা ভিডিও শুনবেন না। মাঝে বিরতি নিন।
কানে খোঁচাখুঁচি করবেন না: কটন বাড, কাঠি বা ধারালো কিছু কানের ভেতরে ব্যবহার করবেন না।
কানের সমস্যা অবহেলা করবেন না: কানে ব্যথা, পুঁজ, বন্ধভাব বা শুনতে কম লাগলে দ্রুত
নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞ দেখান।
ওষুধ ব্যবহারে সতর্ক থাকুন: চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক, ব্যথানাশক বা কানের
ড্রপ ব্যবহার করবেন না।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করুন: পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং রক্তচাপ
ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ কানের স্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক।
টিনিটাস হলে ENT বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার এর পরামর্শ নিন
প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার একজন অভিজ্ঞ নাক-কান-গলা এবং মাথা-ঘাড় রোগ বিশেষজ্ঞ। কানে শব্দ হওয়া, শ্রবণ সমস্যা, নাক-কান-গলার জটিল রোগ, ঘুমের সময় শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা, কণ্ঠস্বরের সমস্যা এবং মাথা-ঘাড়ের বিভিন্ন রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
টিনিটাসের ক্ষেত্রে শুধু কানের শব্দ কমানোই যথেষ্ট নয়। কেন শব্দ হচ্ছে, শ্রবণশক্তির অবস্থা কেমন, কোনো ঝুঁকির লক্ষণ আছে কি না এবং রোগীর দৈনন্দিন জীবনে এর প্রভাব কতটা, এসব বিষয় ভালোভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি।
কানে ভোঁ ভোঁ, ঝিঁঝিঁ, শোঁ শোঁ বা হৃদস্পন্দনের মতো শব্দ দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবহেলা করবেন না। বিশেষ করে এক কানে শব্দ, হঠাৎ কম শোনা, মাথা ঘোরা, কানে ব্যথা বা ঘুমের সমস্যা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার-এর কাছে টিনিটাস, শ্রবণ সমস্যা এবং অন্যান্য নাক-কান-গলার সমস্যার জন্য পরামর্শ নিতে আজই যোগাযোগ করুন।
টিনিটাস রোগের সাধারণ প্রশ্নোত্তর
টিনিটাস নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন থাকে। কানে ভোঁ ভোঁ বা ঝিঁঝিঁ শব্দ কেন হয়, এটি বিপজ্জনক কি না, কোন পরীক্ষা দরকার, চিকিৎসায় ভালো হয় কি না—এসব বিষয় জানা থাকলে রোগী দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। নিচের প্রশ্নোত্তর অংশে টিনিটাস সম্পর্কে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
টিনিটাসের সবচেয়ে সাধারণ কারণ কী?
টিনিটাসের সবচেয়ে সাধারণ কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, উচ্চ শব্দের প্রভাব, কানের ময়লা, কানের ইনফেকশন এবং বয়সজনিত inner ear পরিবর্তন। তবে সবার কারণ এক নয়। তাই দীর্ঘদিন কানে শব্দ হলে পরীক্ষা করে কারণ জানা জরুরি।
টিনিটাস কি রোগ?
টিনিটাস সাধারণত নিজে আলাদা কোনো রোগ নয়। এটি একটি লক্ষণ, যার পেছনে কানের সমস্যা, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, রক্তনালীর সমস্যা, ওষুধের প্রভাব বা অন্য কোনো শারীরিক কারণ থাকতে পারে।
মাথার ভিতরে শব্দ হয় কেন?
মাথার ভিতরে বা কানের ভেতরে শব্দ শোনার পেছনে auditory nerve, inner ear, শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, উচ্চ শব্দের ক্ষতি, মানসিক চাপ বা রক্তপ্রবাহ-সম্পর্কিত কারণ থাকতে পারে। শব্দ যদি দীর্ঘদিন থাকে বা এক কানে বেশি হয়, তাহলে ENT specialist দেখানো ভালো।
টিনিটাস কি ভালো হয়?
কারণভেদে টিনিটাস কমে যেতে পারে বা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। কানের ময়লা, ইনফেকশন বা সাময়িক কারণে হলে চিকিৎসার পর ভালো উন্নতি হতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী ক্ষেত্রে লক্ষ্য থাকে শব্দকে কম বিরক্তিকর করা এবং জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখা।
কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ হলে কী করব?
প্রথমে কানে কিছু ঢুকিয়ে পরিষ্কার করার চেষ্টা করবেন না। যদি শব্দ কয়েকদিনের বেশি থাকে, এক কানে বেশি হয়, শুনতে কম লাগে বা মাথা ঘোরা থাকে, তাহলে ENT specialist দেখান।
টিনিটাস কি শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার লক্ষণ?
অনেক সময় টিনিটাসের সঙ্গে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া থাকে। তবে সব রোগীর শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া থাকে না। শ্রবণশক্তি পরীক্ষা করলে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝা যায়।
টিনিটাসের জন্য কি MRI দরকার?
সব টিনিটাস রোগীর MRI লাগে না। তবে এক কানে টিনিটাস, একতরফা শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া, পালসাটাইল শব্দ বা স্নায়বিক লক্ষণ থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী MRI বা CT scan দিতে পারেন।
হেডফোন বেশি ব্যবহার করলে কি টিনিটাস হতে পারে?
হ্যাঁ, খুব জোরে এবং দীর্ঘ সময় হেডফোন ব্যবহার করলে কানের ক্ষতি হতে পারে। এতে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়া এবং টিনিটাসের ঝুঁকি বাড়তে পারে। নিরাপদ ভলিউমে শুনুন এবং দীর্ঘ সময় একটানা ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতাঃ
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
টিনিটাসের চিকিৎসার জন্য!
আজই প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার-এর সাথে যোগাযোগ করুন।