কানে ব্যথা, ভারী লাগা, কম শোনা, চুলকানি বা কান দিয়ে পানি-পুঁজ বের
হওয়া অনেক সময় কানের ইনফেকশনের লক্ষণ হতে পারে। শিশুদের মধ্যে এটি বেশি
দেখা গেলেও বড়দেরও
কানের ইনফেকশন হতে
পারে। অনেকেই শুরুতে বিষয়টি সাধারণ ব্যথা মনে করেন। কিন্তু সময়মতো
চিকিৎসা না হলে কানের পর্দা, শ্রবণশক্তি বা ভেতরের অংশে জটিলতা তৈরি
হতে পারে।
কানের ইনফেকশন সাধারণত ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস বা
ফাঙ্গাসের কারণে হয়। ঠান্ডা-কাশি, অ্যালার্জি, সাইনাসের সমস্যা, কানে
পানি ঢোকা, কানে খোঁচাখুঁচি করা বা কানের ভেতরে ময়লা জমে থাকাও
ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়ায়। মধ্যকর্ণের ইনফেকশন অনেক সময় ঠান্ডা,
অ্যালার্জি বা শ্বাসনালির সংক্রমণের পর দেখা দেয়। এই ব্লগে আমরা কানের
ইনফেকশন নিয়ে বিস্তারিত জানব।
কানের যেকোনো অংশে জীবাণুর সংক্রমণ হলে তাকে সাধারণভাবে কানের ইনফেকশন
বলা হয়। কানকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়: বাইরের কান, মধ্যকর্ণ এবং ভেতরের
কান। কোন অংশে সংক্রমণ হয়েছে, তার ওপর লক্ষণ ও চিকিৎসা অনেকটা নির্ভর
করে।
বাইরের কানের ইনফেকশন হলে কানে চুলকানি, ব্যথা, কান টানলে ব্যথা বা
পানি-পুঁজ দেখা যেতে পারে। মধ্যকর্ণের ইনফেকশনে
কানে ব্যথা, চাপ
লাগা, কম শোনা, জ্বর বা কান দিয়ে তরল বের হতে পারে। ভেতরের কানের
সমস্যা হলে মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা বা শুনতে অসুবিধা দেখা দিতে পারে।
কানের ইনফেকশন কেন হয়?
কানের ইনফেকশনের একক কোনো কারণ নেই। বয়স, আবহাওয়া,
জীবনযাপন, কানের যত্ন, ঠান্ডা-কাশির প্রবণতা এবং রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা—সবকিছু মিলেই ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ঠান্ডা, কাশি ও ভাইরাল সংক্রমণ: ঠান্ডা বা ভাইরাল ফ্লুর পর
অনেকের নাক-কান-গলার সংযোগপথে প্রদাহ হয়। এতে ইউস্টেশিয়ান টিউব বন্ধ
বা সংকুচিত হয়ে যেতে পারে। তখন মধ্যকর্ণে তরল জমে ব্যাকটেরিয়া বা
ভাইরাসের সংক্রমণ হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
শিশুদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি হয়, কারণ তাদের ইউস্টেশিয়ান টিউব
তুলনামূলক ছোট ও সরল থাকে। তাই নাক-গলার সংক্রমণ সহজে কানে প্রভাব
ফেলতে পারে।
অ্যালার্জি ও সাইনাসের সমস্যা: ধুলাবালি, ঠান্ডা বাতাস, ফুলের
রেণু, খাবারজনিত অ্যালার্জি বা দীর্ঘদিনের সাইনাসের সমস্যা কানের
ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। নাক বন্ধ থাকলে বা সাইনাসে প্রদাহ
থাকলে মধ্যকর্ণে চাপের সমস্যা তৈরি হয়। এতে কান ভারী লাগে, শব্দ আটকে
যায়, ব্যথা হতে পারে।
কানে পানি ঢোকা: সাঁতার, গোসল বা বৃষ্টির পানি কানের ভেতরে
আটকে থাকলে বাইরের কানের ইনফেকশন হতে পারে। আর্দ্র পরিবেশে
ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস সহজে বাড়ে। যাদের কানে চুলকানি বেশি হয় বা
কানের ভেতর বারবার ভেজা থাকে, তাদের এই ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
কানে খোঁচাখুঁচি করা: অনেকে কটন বাড, চাবি, কাঠি, কলমের ঢাকনা
বা অন্য কিছু দিয়ে কান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন। এতে কানের ভেতরের
ত্বকে ছোট ক্ষত হতে পারে। সেই ক্ষত দিয়ে জীবাণু ঢুকে ইনফেকশন তৈরি
করতে পারে।
কানের ভেতরে স্বাভাবিক মোম বা ইয়ারওয়াক্স থাকে, যা অনেক সময় কানকে
ধুলাবালি ও জীবাণু থেকে সুরক্ষা দেয়। তাই অপ্রয়োজনে গভীরভাবে কান
পরিষ্কার করা ঠিক নয়।
কানের ময়লা জমে থাকা: কানের ময়লা বা ওয়াক্স বেশি জমে গেলে কান
বন্ধ লাগতে পারে, কম শোনা যেতে পারে, চুলকানি হতে পারে। কেউ যদি নিজে
নিজে এটি বের করার চেষ্টা করেন, তখন ক্ষত বা প্রদাহ তৈরি হতে পারে।
অনেক সময় জমে থাকা ময়লার পেছনে আর্দ্রতা আটকে থাকলেও ইনফেকশন বাড়তে
পারে।
কানের পর্দায় ছিদ্র বা পুরোনো ইনফেকশন: আগে কানের ইনফেকশন হয়ে
থাকলে, কানের পর্দায় ছিদ্র থাকলে বা দীর্ঘদিন কান দিয়ে পুঁজ বের হলে
সংক্রমণ বারবার হতে পারে। এ ধরনের ক্ষেত্রে নিজে নিজে ড্রপ ব্যবহার
করলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে। কারণ সব কানের ড্রপ ছিদ্রযুক্ত পর্দার
জন্য নিরাপদ নয়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া: ডায়াবেটিস, দীর্ঘদিনের
অসুস্থতা, অপুষ্টি বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে গেলে কানের ইনফেকশন
সহজে হতে পারে। এ ধরনের রোগীর ক্ষেত্রে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে পারে,
তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কানের ইনফেকশনের সাধারণ লক্ষণ
কানের ইনফেকশন হলে শুরুতে হালকা ব্যথা, চুলকানি বা কান ভারী লাগার মতো
সমস্যা দেখা দিতে পারে। অনেক সময় শুনতে কম পাওয়া, কান দিয়ে পানি বা
পুঁজ বের হওয়া, জ্বর, মাথা ঘোরা বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দও হতে পারে। এসব
লক্ষণ অবহেলা না করে সময়মতো ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কানে ব্যথা বা জ্বালাপোড়া
কান ভারী লাগা বা চাপ অনুভব করা
শুনতে কম পাওয়া
কান দিয়ে পানি, পুঁজ বা দুর্গন্ধযুক্ত তরল বের হওয়া
কানে চুলকানি
জ্বর
মাথা ঘোরা বা ভারসাম্য সমস্যা
কানে ভোঁ ভোঁ বা শোঁ শোঁ শব্দ
শিশুদের কান টানা, কান চেপে ধরা, কান্না, অস্থিরতা, ঘুম কম হওয়া
কানের ইনফেকশন কি বিপজ্জনক?
কানের ইনফেকশন সব সময় বিপজ্জনক নয়, তবে অবহেলা করলে সমস্যা জটিল হতে
পারে। বিশেষ করে কানে তীব্র ব্যথা, পুঁজ, কম শোনা, মাথা ঘোরা, জ্বর বা
বারবার ইনফেকশন দেখা দিলে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সময়মতো চিকিৎসা নিলে বেশিরভাগ কানের ইনফেকশন ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা
যায়। যেমন:
চিকিৎসা নির্ভর করে ইনফেকশনের ধরন, বয়স, ব্যথার মাত্রা, কানের পর্দার
অবস্থা এবং পুঁজ বা তরল আছে কি না—এসব বিষয়ের ওপর। তাই কানের সমস্যা
হলে আগে পরীক্ষা জরুরি।
ENT বিশেষজ্ঞ সাধারণত
অটোস্কোপ বা প্রয়োজনীয় যন্ত্র দিয়ে কান পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনে শ্রবণ
পরীক্ষা, কানের তরল পরীক্ষা বা অন্যান্য পরীক্ষা করা হতে পারে।
ব্যথা কমানোর ওষুধ
অ্যান্টিবায়োটিক, যদি ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশনের প্রয়োজন থাকে
অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ, যদি ফাঙ্গাল ইনফেকশন হয়
কানের ড্রপ, তবে পর্দার অবস্থা দেখে
কানের ময়লা বা পুঁজ পরিষ্কার করা
বারবার ইনফেকশন হলে বিশেষ চিকিৎসা পরিকল্পনা
দীর্ঘস্থায়ী মধ্যকর্ণের সমস্যায় প্রয়োজনীয় ENT ব্যবস্থাপনা
কানের ইনফেকশন প্রতিরোধে করণীয়
কানের ইনফেকশন প্রতিরোধে সবচেয়ে জরুরি হলো কানের সঠিক যত্ন নেওয়া এবং
অপ্রয়োজনে কানে কিছু না ঢোকানো। ঠান্ডা-কাশি, অ্যালার্জি, কানে পানি
ঢোকা বা কানে খোঁচাখুঁচির কারণে ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই কিছু
সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে কানের সংক্রমণ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কানে কাঠি, চাবি বা শক্ত বস্তু ঢোকাবেন না
গোসল বা সাঁতারের পর কান ভেজা থাকলে সাবধানে শুকিয়ে নিন
ঠান্ডা-কাশি, অ্যালার্জি ও সাইনাসের সমস্যা অবহেলা করবেন না
কানে ব্যথা বা পুঁজ হলে নিজে নিজে ড্রপ ব্যবহার করবেন না
বারবার ইনফেকশন হলে ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন
কখন একজন ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিবেন?
কানে ব্যথা, কানে পুঁজ, শুনতে কমে যাওয়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বারবার
ইনফেকশন, শিশুর কানের সমস্যা বা কানের পর্দা নিয়ে সন্দেহ থাকলে দেরি না
করে একজন অভিজ্ঞ ENT বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার একজন অভিজ্ঞ ENT ও Head-Neck
বিশেষজ্ঞ। কানের ইনফেকশন, শ্রবণ সমস্যা, কানের পর্দার সমস্যা,
দীর্ঘদিনের কান পাকা এবং নাক-কান-গলা সংক্রান্ত জটিল সমস্যায় সঠিক
পরীক্ষা ও চিকিৎসা পরিকল্পনার জন্য তাঁর পরামর্শ নিতে পারেন।
কানের ইনফেকশন নিয়ে অনেকেরই সাধারণ কিছু প্রশ্ন থাকে। কখন ডাক্তার
দেখাবেন, কানে পুঁজ হলে কী করবেন, কানের ড্রপ ব্যবহার করা ঠিক কি না,
শিশুর কানের ব্যথা কতটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত—এসব প্রশ্নের সহজ
উত্তর জানা থাকলে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
কানের ইনফেকশন কি নিজে নিজে ভালো হয়?
হ্যাঁ, অনেক সময় কানের ইনফেকশন ৩–৫ দিনের মধ্যে নিজে নিজে ভালো
হয়ে যায়। তবে ব্যথা কমাতে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী
প্যারাসিটামল বা আইবুপ্রোফেন নেওয়া যেতে পারে। যদি কানে
পুঁজ/পানি পড়ে, জ্বর থাকে, শুনতে সমস্যা হয় বা ব্যথা বাড়ে,
ডাক্তার দেখানো জরুরি। শিশু, বয়স্ক বা বারবার ইনফেকশন হলে নিজে
থেকে অপেক্ষা না করাই ভালো।
কানে পুঁজ বের হলে কী করব?
কানে পুঁজ বের হলে নিজে নিজে ড্রপ ব্যবহার করবেন না। আগে কানের
পর্দা ঠিক আছে কি না, ইনফেকশন কোথায় হয়েছে এবং কোন ওষুধ
দরকার—এসব পরীক্ষা করা জরুরি।
শিশু বারবার কান ধরে টানলে কি ইনফেকশন হতে পারে?
হতে পারে। শিশু কান ব্যথা, চাপ, চুলকানি বা অস্বস্তির কারণে কান
টানতে পারে। এর সঙ্গে জ্বর, কান্না, ঘুম কম হওয়া বা কম শোনা
থাকলে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞ দেখানো উচিত।
কানের ইনফেকশনে কটন বাড ব্যবহার করা যাবে?
না, কানের ভেতরে কটন বাড ঢোকানো ঠিক নয়। এতে ময়লা আরও ভেতরে যেতে
পারে, কানের ত্বকে ক্ষত হতে পারে এবং ইনফেকশন বাড়তে পারে।
কানের ইনফেকশন কি ছোঁয়াচে?
কানের ইনফেকশন সরাসরি ছোঁয়াচে নয়। তবে যে ঠান্ডা-কাশি বা ভাইরাল
সংক্রমণের পর কানের ইনফেকশন হয়, সেটি অন্যদের মধ্যে ছড়াতে পারে।
কানের ইনফেকশন হলে কখন দ্রুত ডাক্তার দেখাব?
তীব্র ব্যথা, কান দিয়ে পুঁজ বা রক্ত, হঠাৎ কম শোনা, মাথা ঘোরা,
উচ্চ জ্বর, শিশুর অস্থিরতা, ডায়াবেটিস থাকলে বা বারবার ইনফেকশন
হলে দ্রুত ENT বিশেষজ্ঞ দেখানো জরুরি।
সতর্কতাঃ
ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যসমূহ শুধুমাত্র সচেতনতা ও শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে প্রকাশিত। এটি কোনোভাবেই চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
কানের সমস্যার চিকিৎসার জন্য!
আজই প্রফেসর ডাঃ কামরুল হাসান তরফদার-এর সাথে যোগাযোগ করুন।
Get sore throat treatment in Bangladesh from an experienced ENT specialist. Learn causes, symptoms, diagnosis, tonsillitis care, and when to see a doctor.
Struggling with breathing or voice problems? Consult Prof. Dr. Kamrul Hassan Tarafder for bilateral vocal cord paralysis treatment in Dhaka with proper evaluation and care.
Get hearing test from the best audiologist Dr. Kamrul Hasan Tarafder in Bangladesh, including PTA, OAE, BERA, tympanometry, hearing loss diagnosis and hearing aid support.